গল্প ৩ । ফাল্গুন ১৪৩২



শিশিরের অক্ষর











শিবজ্যোতি দত্ত

আগরতলা, ত্রিপুরা


 

সুমন যেদিন প্রথম উনকোটিতে এসে পৌছাল সেদিনটা ছিল নরম আলোর দিন। পাহাড়ের গায়ে আলো পড়ে পাথরের মূর্তিগুলো সোনালি হয়ে উঠেছিল, আর ত্রিশ ফুট উঁচু কালভৈরবের মুখে এমন একটা ছায়া পড়েছিল যে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি চোখ খুলতে চলেছেন। 

পর্যটন দফতরে চাকরি পাওয়ার পর প্রথম পোস্টিং এখানে, কৈলাশহর থেকে আট কিলোমিটার ভেতরে, জঙ্গলের মধ্যে, যেখানে পর্যটক আসে বেশিরভাগ শীতের মরশুমে, বাকি সময়টা পাখি আর বানরই দর্শনার্থী।

সুমনের কাজ সোজা — পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানো, কিংবদন্তি বলা, ছবি তোলার জায়গা দেখিয়ে দেওয়া। কালু কুমারের গল্প — সে পার্বতীর ভক্ত, তারপর শিবের শর্ত- এক রাতে এক কোটি মূর্তি শেষ করতে হবে, দেখতে দেখতে ভোর হয়ে গেল, এক কোটি মূর্তির চেয়ে একটি কম হল, শিব চলে গেলেন কৈলাসে, কালু রয়ে গেলেন পাথর হয়ে। গল্পটা সুমন মুখস্থ করে ফেলেছিল তিনদিনের মধ্যে।

কিন্তু চতুর্থ দিন ভোরে একটা অদ্ভুত জিনিস সে খেয়াল করলো। প্রতিদিন সকালে উনকোটির মূর্তিগুলোর গায়ে শিশির জমে। এটা স্বাভাবিক — পাহাড়ি জায়গা, কুয়াশা নামে, পাথর ঠান্ডা থাকে, জলকণা বসে। কিন্তু সেদিন সুমন দেখল — গণেশকুণ্ডের পাশে, সিঁড়ির শেষে, যে ছোটো অসমাপ্ত মূর্তিটা আছে — না শিব, না বিষ্ণু, না গণেশ, কোনো দেবতা নয়, শুধু একটা মানুষের অবয়ব, মুখটা অস্পষ্ট, যেন ভাস্কর শেষ করতে পারেননি — সেই মূর্তিটার বুকে শিশিরের ফোঁটাগুলো একটা আকার নিয়েছে। বিন্দু বিন্দু জল, কিন্তু সেই জলকণা এলোমেলো নয়, তারা একটা অক্ষর তৈরি করেছে।

        সুমন কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল মূর্তিটার সামনে। সকালের প্রথম আলো তখন পাথরে পড়েছে, আর সেই আলোয় শিশিরের অক্ষরটা ঝকমক করছে। অক্ষরটা বাংলা, কিন্তু চেনা বাংলা নয়। পুরোনো, গোল, বাঁকা, প্রাচীন লিপির মতো। সুমন ফোনে ছবি তুলে রাখল। একটু পরে রোদ উঠল, শিশির উবে গেল, অক্ষরটাও মিলিয়ে গেল। পরদিন আবার। একই মূর্তি, একই জায়গা, কিন্তু অন্য অক্ষর। সুমন আবার ছবি তুলল। এবার সে নিশ্চিত — ব্যাপারটা দৈবাৎ নয়, শিশির নিজে থেকে তো অক্ষর বানায় না। কিন্তু কে বানাচ্ছে? রাতে কেউ আসে? সুমন মূর্তিটা পরীক্ষা করল — পাথরের গায়ে কোনো খোদাই নেই, কোনো খাঁজ নেই যেখানে জল জমে এই আকার নিতে পারে। পাথর মসৃণ।

তৃতীয় দিন সুমন ভোর চারটেয় এসে বসে রইল মূর্তির সামনে। অন্ধকার, টর্চ জ্বালাল না, চুপ করে বসে রইল। শীতের ভোর, গায়ে জ্যাকেট, তবু ঠান্ডায় দাঁত কিড়মিড় করছিল। জঙ্গলের ভেতর থেকে কী যেন ডাকছিল — পাখি না পোকা, বোঝা গেল না। কুয়াশা নামছে, ঘন, পাহাড়ের ওপর থেকে গড়িয়ে আসছিল যেমন কেউ সাদা কাপড় বিছিয়ে দিচ্ছে। সুমন দেখল — কোনো মানুষ আসেনি, কোনো হাত নেই, কোনো যন্ত্র নেই — কিন্তু কুয়াশার মধ্যে থেকে জলকণা এসে বসছে পাথরের বুকে, ধীরে ধীরে, একটু একটু করে, যেন কেউ অদৃশ্য আঙুলে লিখছে। কখনো থামছে, কখনো আবার শুরু করছে, যেমন লেখক ভাবে তারপর লেখে। কতক্ষণ কেটে গেলো সেদিকে হুঁশ ছিলোনা সুমনের। ভোরের প্রথম আলো পড়তেই অক্ষরটা স্পষ্ট হল — এটা আরেকটা, আগের দিনের থেকে আলাদা।

সুমনের মেরুদণ্ড দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। এটা প্রকৃতির খেলা নয়। এটা কেউ লিখছে।

চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম দিন — প্রতিদিন একটা করে নতুন শব্দ। সুমন প্রতিদিন ভোরে আসত, ছবি তুলত, খাতায় আঁকত। ষষ্ঠ দিন সে লক্ষ করল — অক্ষরগুলো শুধু পাথরের একই জায়গায় ফুটছে, মূর্তির বুকে, ঠিক যেখানে হৃদপিণ্ড থাকে। সাতদিনে সাতটা শব্দ।

সুমন কাগজে লিখে রাখল। অক্ষরগুলো চেনা হরফে না, প্রাচীন বাংলা। কৈলাশহরের কলেজে বাংলার অধ্যাপক তরুণবাবু আছেন — অবসরের দোরগোড়ায়, সারাজীবন চর্যাপদ নিয়ে গবেষণা করেছেন, একটা বই লিখতে চেয়েছিলেন কিন্তু লেখা হয়ে ওঠেনি। সুমন তাঁর কাছে গেল।

তরুণবাবু কাগজটা দেখে চশমা ঠিক করলেন। তারপর অনেকক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলেন। বললেন, "এটা প্রাচীন বাংলা, চর্যাপদের ভাষা। সন্ধ্যা ভাষা — আলো আঁধারির ভাষা, খানিক বোঝা যায়, খানিক বোঝা যায় না।"

"কী লেখা আছে এতে বলুন না?"

তরুণবাবু আবার তাকালেন। "সাতটা শব্দ মিলিয়ে একটা বাক্য হচ্ছে। পুরোটা বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু মোটামুটি দাঁড়াচ্ছে — 'পাখানে তরু তলে, অসমাপ্ত ভণই জাণ'।" তরুণবাবু থামলেন। "মানে — পাথরের গাছের তলায়, অসমাপ্ত যে আছে, তাকে জানো।"

"পাথরের গাছ?"

"পাথরে খোদাই করা গাছ। উনকোটিতে তো অনেক খোদাই আছে।"

        সুমন ফিরে গেল। পুরো এলাকাটা চষে বেড়াল। মূর্তি আছে অসংখ্য — শিব, গণেশ, দুর্গা, নন্দী — কিন্তু গাছ? পাথরে খোদাই করা গাছ কোথায়? প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বোর্ডে লেখা তথ্যগুলো পড়ল। কোথাও গাছের কথা নেই।

      তিনদিন খুঁজল সে এমন কিছুই নজরে পড়লো না। চতুর্থ দিন, মূল মন্দির এলাকা থেকে অনেকটা দূরে, জঙ্গলের ভেতরে, একটা বড়ো পাথরের চাঙড়ের গায়ে দেখল — অস্পষ্ট, শ্যাওলায় ঢাকা, কিন্তু খোদাই করা আছে — একটা গাছ। শাখা, প্রশাখা, পাতা, এমনকি ফল — সব পাথরে কাটা, কিন্তু শত শত বছরের ক্ষয়ে প্রায় মুছে গেছে।

গাছটার তলায় — ঠিক তলায় — মাটি অন্যরকম। নরম, বাকি জায়গার মতো শক্ত পাহাড়ি মাটি নয়। সুমন হাত দিয়ে সরাল — পাতা, ডালপালা সরাতেই একটা ফাটল দেখা গেল, কিন্তু ভেতরে কি আছে কিছু বোঝা যায়না।

পরদিন একটা শক্ত টর্চ আর দড়ি নিয়ে এল। ফাটলটা বড়ো যথেষ্ট — একজন মানুষ গলে যেতে পারে। সুমন ঢুকল।

ভেতরে একটা গুহা। ছোটো, একটা ঘরের সমান, তবু ঢুকতেই একটা অন্যরকম গন্ধ পেল সে— পুরোনো পাথরের গন্ধ, হ্যাঁ, কিন্তু তার সঙ্গে মিশে আছে অন্য কিছু, যেন বহু বছর আগে কেউ এখানে ধুনো জ্বালিয়েছিল আর সেই ধোঁয়ার স্মৃতি পাথর ভুলতে পারেনি। টর্চের আলোয় দেওয়াল উজ্বল হয়ে উঠল — পুরো দেওয়াল জুড়ে খোদাই। মূর্তি নয়, অক্ষর। সেই একই প্রাচীন লিপি, সেই সন্ধ্যা ভাষা, সারি সারি, ওপর থেকে নিচ, বাঁদিক থেকে ডানদিক। কোথাও অক্ষর গভীর, স্পষ্ট, যেন ভাস্করের বাটালি জোরে পড়েছিল, কোথাও হালকা, যেন হাত কাঁপছিল, যেন আলো কম ছিল, যেন ক্লান্তি এসেছিল। কেউ এই গুহার দেওয়ালে কিছু লিখে গেছে? কত শত বছর আগে?

গুহার মাঝখানে — একটা মূর্তি। অসমাপ্ত। একটা মানুষ বসে আছে, পা ভাঁজ করা, হাতে কিছু একটা ধরা, সামনে পাথরের একটা চাঙড়। মুখটা — এবারও অস্পষ্ট, শেষ হয়নি।

সুমন প্রথমে ভাবল — কোনো দেবতা হবে, শিবের অন্য কোনো রূপ, হয়তো বাইরের মূর্তিগুলোর মতোই। কিন্তু দেবতাদের মুকুট থাকে, গহনা থাকে, বাহন থাকে — এখানে কিছুই নেই। তাহলে কোনো সাধক? কোনো শিষ্য? সুমন টর্চটা কাছে ধরল — মূর্তির হাতে জপমালা নয়, ত্রিশূল নয় — বাটালি। পাথর কাটার বাটালি। আর সামনের চাঙড়টা — সেটাও বেদি নয়, সেটাও একটা অর্ধগড়া মানুষের আকার, একই ভঙ্গিতে বসা, যেন আয়নায় প্রতিবিম্ব।

সুমন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বুঝল। ভাস্কর নিজের মূর্তি গড়ছিলেন। নিজের হাতে নিজেকে খুঁজছিলেন পাথরে। আর শেষ করতে পারেননি। সুমনের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। টর্চটা হাত থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল, সামলে ধরল।

এক কোটি থেকে এক যেটা কম — সেটা কোনো দেবতার মূর্তি নয়। সেটা ভাস্করের নিজের মূর্তি। কালু নিজেকে গড়তে পারেননি। যিনি সবাইকে রূপ দিয়েছেন, তিনি নিজে রূপহীন রয়ে গেছেন।

সুমন টর্চটা দেওয়ালের লেখার দিকে ঘোরাল। তরুণবাবুকে আনতে হবে, এই লেখা পড়াতে হবে। কিন্তু একটা অংশ — গুহার ঢোকার মুখের কাছে, নিচু দিকে — সুমন চিনতে পারল। সেই সাতটা শব্দ, সেই একই হাতের লেখা, যেটা শিশিরে ফুটে উঠেছিল। তার পাশে আরও কিছু লেখা, আরও লম্বা, আরও জটিল।

সুমন গুহা থেকে বেরিয়ে এল। বাইরে বিকেলের আলো। পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে প্রশান্ত ভঙ্গিমায়, তার গায়ে শত শত মূর্তি, তাদের চোখে পাথরের দৃষ্টি, মুখে পাথরের নীরবতা। কিন্তু সুমনের মনে হল — এই পাহাড় নীরব নয়। এত বছর ধরে এই পাহাড় কথা বলতে চাইছিল, সেই ভাস্করের ভাষায়, সেই প্রাচীন সন্ধ্যা ভাষায়, কিন্তু কেউ শোনেনি, কেউ পড়তে পারেনি।

শিশির ফুটে উঠত প্রতিদিন, মুছে যেত রোদে।

সুমন সেই রাতে তরুণবাবুকে ফোন করল। রাত এগারোটা বাজে তখন, তরুণবাবু ঘুমাচ্ছিলেন, কিন্তু সুমনের গলার স্বরে অস্বাভাবিক কিছু বুঝে উঠে পড়লেন। পরদিন সকালে তরুণবাবু এলেন, সঙ্গে একটা নোটবই, হ্যারিকেন, আর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের একটা পুরোনো বই যেটায় চর্যাপদের ভাষাতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা আছে। দুজনে মিলে গুহায় ঢুকলেন। তরুণবাবু দেওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তাঁর হাত কাঁপছিল — উত্তেজনায়, না ভয়ে, সুমন বুঝতে পারল না। তারপর একটা অদ্ভুত কাজ করলেন — চশমা খুলে দেওয়ালের কাছে গেলেন, আঙুল দিয়ে খোদাইয়ের খাঁজ ছুঁয়ে দেখলেন, যেমন অন্ধ মানুষ ব্রেইল পড়ে। চল্লিশ বছর বইয়ের পাতায় এই ভাষা পড়েছেন, আজ প্রথম ছুঁলেন। তারপর ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করলেন — ভাঙা ভাঙা, থেমে থেমে, কারণ ভাষাটা পুরোপুরি বোঝা দুষ্কর, হাজার বছরের পুরোনো শব্দ, অর্থ বদলে গেছে, কিছু অক্ষর ক্ষয়ে গেছে।

কিন্তু যতটুকু বোঝা গেল, তাতে একটা গল্প দাঁড়াল। ভাস্কর একা ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা — তাঁরা এই পাহাড়ে ধ্যান করতেন, সাধনা করতেন। ভাস্কর মূর্তি গড়তেন, তাঁরা পদ রচনা করতেন — সেই পদ এই দেওয়ালে খোদাই করা। মূর্তি আর অক্ষর পাশাপাশি জন্মেছিল এই পাহাড়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মূর্তি টিকে গেল, অক্ষর হারিয়ে গেল। পাথর রইল, ভাষা হারিয়ে গেল।

ভাস্কর তাঁর শেষ কাজ হিসেবে নিজের মূর্তি গড়তে বসেছিলেন এই গুহায়, আর দেওয়ালে খোদাই হচ্ছিল শেষ পদটি — কিন্তু কোনোটাই শেষ হয়নি। মূর্তিও না, পদও না। দুটোই অসমাপ্ত।

তরুণবাবু শেষ যে কটা শব্দ পড়তে পারলেন, সুমন লিখে রাখল: "কাআ তরু সিলা, ভণই চীএ জাণ — রূপ দেহি পরকে, আপণ অজাণ।"

      তরুণবাবু বললেন, "মোটামুটি অর্থ দাঁড়ায় — শরীর পাথরের গাছ, মন বলে জানো — অন্যকে রূপ দিয়েছি, নিজেকে চিনি না।"

সুমন চুপ করে বসে রইল গুহার ভেতরে। টর্চের আলোয় অসমাপ্ত মূর্তি — ভাস্কর, যিনি এক কোটির কাছাকাছি মূর্তি গড়েছেন, কিন্তু নিজের মুখ গড়ে উঠতে দেননি কখনো। হয়তো পারেননি, হয়তো জানতেন — নিজেকে গড়া সবচেয়ে কঠিন কাজ।

বাইরে বেরিয়ে দেখল সন্ধ্যা নামছে। রঘুনন্দন পাহাড়ের মূর্তিগুলো অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে একটা একটা করে। কালভৈরবের মুখটা শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল, তারপর সেটাও অন্ধকারে আর দেখা গেলনা।

পরদিন ভোরে সুমন আবার গেল সেই অসমাপ্ত মূর্তিটার কাছে — ওপরের, বাইরের — যেটায় শিশির জমত। আজ কোনো অক্ষর নেই। শিশির আছে, কিন্তু এলোমেলো, যেমন থাকে, স্বাভাবিক। যেন পাথর যা বলার ছিল বলে ফেলেছে, আর তার দায় মেটানো হয়ে গেছে।

গুহা খুলে গেছে। ভাস্করকে কেউ খুঁজে পেয়েছে। আর কিছু বলার নেই। কিন্তু সুমন লক্ষ করল — অক্ষর নেই, তবু শিশির আজ অন্যভাবে জমেছে। মূর্তির বুকে নয় — মুখে। যে মুখটা অসমাপ্ত, যেখানে চোখ হওয়া উচিত ছিল, ঠোঁটের রেখা থাকা উচিত ছিল — সেখানে ঘন শিশির বসেছে, বিন্দু বিন্দু, আর ভোরের প্রথম আলো পড়তেই জলকণাগুলো জ্বলে উঠল। মুখ নেই, কিন্তু মুখের জায়গায় আলো।

সুমন দেখল সকালের আলো তখন অন্য মূর্তিগুলোর গায়েও পড়ছে, একটা একটা করে তারা ঘুম ভেঙে উঠছে — গণেশ, দুর্গা, নন্দী, কালভৈরব — সবার মুখ স্পষ্ট, সবার চোখ খোলা, শুধু এই একটা মূর্তির মুখ নেই। একটু পরেই রোদ উঠবে, শিশির শুকিয়ে যাবে, এই ভেজা আলোটুকুও থাকবে না। তারপর হাত দিয়ে মূর্তির অস্পষ্ট মুখটা ছুঁয়ে দেখল — পাথর ঠান্ডা, ভেজা, কিন্তু আঙুলের ডগায় একটা কম্পন টের পেল — হয়তো পাহাড়ের, হয়তো নিজের।

পেছনে সিঁড়িতে পর্যটকদের পায়ের শব্দ শুরু হয়ে গেছে। সুমন হাত নামিয়ে নিল, ঘুরে দাঁড়াল, কালু কুমারের গল্প বলার জন্য তৈরি হল — কিন্তু আজ গল্পটা বলতে গিয়ে তার গলায় একটু আটকাবে, সে জানে, কারণ এখন সে জানে গল্পটা শুধু গল্প নয়।