৬ সেপ্টেম্বর : দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল আজ পেলাম। মনোযান তৈরি হয়েছে। শুধু তৈরিই নয়, সেটাতে চড়ে নিঃশব্দে নানা যুগে বেশ খানিকটা উড়েও এসেছি। এটা চলে সৌরশক্তিতে। ঘণ্টা তিনেক রোদে রেখে দিলে ব্যাটারি পায় টানা তিনদিন নিরবিচ্ছিন্ন উড়বার শক্তি।
এবার গিন্নিকে এই যানে করেই তাঁর বেনারসের বাপের বাড়িতে রেখে আসতে হবে। যেখানে যাবার জন্য তিনি ঘন ঘন বায়না ধরছেন।
মনোযান আসলে টাইম মেশিন। ল্যাটিচ্যুড—লঙ্গিচ্যুড আর সনতারিখ যানটার নানা মিটারে নির্দিষ্ট করে সুইচ টিপলেই, অতীত বা ভবিষ্যতের সে জায়গায় চোখের নিমেযে
পৌঁছে যায়। ইতিমধ্যে মিশরের পিরামিড আর মমি তৈরির কৌশল দেখলাম। চোখের
সামনে ফারআও আখনটনের মমি তৈরি হতে দেখে রীতিমত রোমাঞ্চ হচ্ছিল। ডায়নোসরদের যুগে
ফিরে গিয়ে বিশাল বিশাল দানবদের ঘোরাফেরাও দেখে এলাম। সম্রাট আশোকের রাজসভায় একদিন গিয়েছিলাম।
আসলে মনোযান তৈরির আইডিয়াটা
গিন্নির বায়না মেটাতে গিয়েই এসেছে। সেবার বেনারস থেকে ট্রেনে ফিরতে বড় কষ্টে পেয়েছিলেন। কামরার ট্যাঙ্কের জল ফুরিয়ে যেতে তিনবেলা স্নানের অভ্যাস বজায় রাখতে পারেননি। ফলে
সারাদিন মুখেও কিছু তোলননি। ফিরেই আমাকে তিরস্কার করেছিলেন, ‘কিসের বৈজ্ঞানিক তুমি, বুঝি না বাপু! যাবার মধ্যে ন’মাসে ছ’মাসে একবার যাই বাপের বাড়ি। নির্ঝঞ্ঝাটে সেখানে যাওয়া আসার জন্য একটা গাড়ি বানাতে পারো না?’
ভেবেছিলাম গাড়ি বানাবো ঠিকই। তবে সে গাড়ি মাটিতে চলবে না। সরাসরি আকাশে উড়বে। মানুষের মনের চেয়েও সে যানের গতি হবে বেশি। নতুন আবিষ্কারের নাম
দিয়েছিলাম — মনোযান।
তবে ডায়েরিতে মনোযান তৈরির কৌশল, কি কি মিশিয়ে তার ধাতু বানিয়েছিলাম, সে সব বলছি না। বললেও অনেকে, বিশেষত ইউরোপের বিজ্ঞানীমহল তা বিশ্বাস করবে না। বাঁদরলাঠির শেকড়, মাকড়সার জাল, বাঁদরের নখ— তরল ট্রিটিনিয়ামের সঙ্গে মিশিয়ে দারুন হাল্কা অথচ ভীষণ মজবুত ধাতুসংকরটি বানিয়েছি, কেউ তা মানবে? ধাতুসংকরটার নাম রেখেছি ঝড়োনিয়াম। আমার নাম ঝড়তাচ্ছিল্যের সঙ্গে মিলিয়ে।
২৩ ডিসেম্বর: আজ রাতে নিমেষে গিন্নিকে তাঁর বাপের বাড়ি পৌঁছে দিলাম। মনোযানে
প্রথম চড়ে এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে, সারা পথ একটাও কথা বলেননি। অবাক চোখে বারবার আমার দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন। বাড়ি ফিরে মনোযানের ভেতরে পাইলটের সিটে না বসেই যাতে চালাতে পারি, তার পথ খুঁজতে শুরু করলাম। মানে, মনোযান হবে দূরনিয়ন্ত্রিত। নিচে থেকে বোতাম টিপেই সেটাকে এদেশ-ওদেশ-অতীত-ভবিষ্যত ঘোরাতে পারবো।
১৮ ফেব্রুয়ারি: আজ দুপুরে কাজটা শেষ হলো। হাতে আমারই তৈরি একটা ছোট্ট যন্ত্র। তাতে রয়েছে নানা ধরণের সুইচ। আর পৃথিবীর একটা ম্যাপ। সে ম্যাপ দেখে ল্যাটিচুড-লঙ্গিচুড মেপে কোন সময়ে যেতে হবে স্থির করে বোতাম টিপে চালকহীন মনোযানকে সেখানে পৌঁছে দিতে পারবো। আজ সেই উপায়েই মনোযানকে অতীতের প্যারিসে পাঠিয়েছিলাম। সে সেখানে গিয়ে গোপন ক্যামেরায় আইফেল টাওয়ার তৈরির ছবিও তুলে এনেছে। ব্যাস কাজ শেষ। এবার পেটেন্টের জন্য আবেদন আর লন্ডনের বিখ্যাত নেচার পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখে পাঠিয়ে দিতে হবে। প্রবন্ধটা প্রকাশিত হওয়া মাত্র এই আবিষ্কার নিয়ে গোটা পৃথিবীতে হৈহৈ শুরু হয়ে যাবে।
৩ মার্চ: এখন ১৯৪২। গাঁধী মহারাজ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। দেওঘরেও আছড়ে পড়েছে সে আন্দোলনের ঢেউ। বাড়ি থেকে বিশেষ বাইরে বের হই না। বাইরের যা কাজ,
করে আমার চাকর হরিপদ। আজ বাজার থেকে হাঁফাতে হাঁফাতে ফিরে সে যা বলল, তাতে চক্ষুস্থির!
মদের দোকানের সামনে সত্যাগ্রহীরা পিকেটিং করছিলেন। পুলিশ এলো। দলটির নেতৃত্বে সাদা চামড়ার আলফ্রেড নামের এক অতি কুখ্যাত অফিসার। সেই আলফ্রেড নাকি সত্যাগ্রহীদের ওপর আচমকা গুলি চালায়। তাতে তিনজন সত্যাগ্রহীর মৃত্যু হয়। অতিবৃদ্ধ বানোয়ারীলাল নামের সত্যাগ্রহী গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটছিল। সে অবস্থায় আলফ্রেড নাকি বিরাশি বছরের বৃদ্ধের বুকে সবুট লাথির পর লাথি মেরে চলেছিল। বৃদ্ধের মৃত্যুর অনেক পরও তাঁর শবের ওপর একই রকমভাবে লাথি মারছিল সে। এতে ওই পথ দিয়ে যাওয়া এক তরুণের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে। সে সোজাসুজি এসে আলফ্রেডের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দারুন ধস্তাধস্তি শুরু হয় দুজনের ভেতর। অফিসার ফের পিস্তল বের করে
গুলি চালাবার চেষ্টা করতে তরুণ আগ্নেয়াস্ত্রটি কেড়ে নিয়ে তাকেই খুব কাছ থেকে গুলি করে। গুলি লেগে আলফ্রেডের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। তরুণটি পালিয়ে যায়। কিন্তু তারপরেই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে কালাআদমিদের ওপর আর এক ঘোর অত্যাচারী অফিসার চার্লস ওই যুবকের সন্ধানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেছে। হরিপদ জানালো, তরুণটিকে আমি খুব ভালো করেই
চিনি। সে আমাদের প্রতিবেশী হরদয়াল পণ্ডিতের ছেলে। ছেলেটির নাম দীনবন্ধু। সে কলকাতায় থেকে লেখাপড়া করে। ছাত্র হিসেবে তার খুব সুনাম। ছেলেটার উজ্বল ভবিষ্যত গোল্লায় গেল। পুলিশ তাকে তো ছাড়বে না। হরিপদ খুব আফসোস করতে লাগলো।
৫ মার্চঃ গভীর রাতে ল্যাবরেটরির জানলায় মৃদু ঠুকঠুক শব্দ! জানলা খুলে দেখি হরদয়াল পণ্ডিত পাংশু মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পিছনে ছেলে দীনবন্ধু। দুজনকে তাড়াতাড়ি ভেতরে ঢুকিয়ে নিলাম। হরদয়াল বললেন, ‘‘ডক্টর সাহাব। সব ঘটনা শুনেছেন তো। আমার ছেলে একটা বাজে কাজ করে ফেলেছে। ওকে পুলিশ পাগলের মত খুঁজছে। ধরতে পারলে কুকুরের মত গুলি করে মারবে। আপনি যেভাবে পারেন ওকে বাঁচান। আমার এই একটিই ছেলে। ও মরে গেলে আমার মুখে আগুন কে দেবে?’’ হরদয়াল হাউহাউ করে কাঁদতে লাগলেন।
কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, ‘‘আপনার সঙ্গে সাহেবদের ওঠাবসা রয়েছে। আপনি বরং তাঁদের বলে দীনুকে লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুন। সাহেবদের বাড়িতে তো আর পুলিশ ওকে খুঁজতে যাবে না! ছেলে ছাড়া আমার আর কেউ–ই নেই। ও না থাকলে আমার কী হবে!’’
রাজি হতে পারলাম না। আমার সঙ্গে অনেক বড় মাপের ইংরেজ অফিসারদের চেনাশোনা রয়েছে ঠিকই। এই পরিস্থিতিতে কেউই দীনুকে আশ্রয় দিতে চাইবেন না। উল্টে ওকে লুকিয়ে রাখতে বলেছি, জানাজানি হয়ে গেলে আমারও বিপদ। ভাবতে লাগলাম। আমি জানতাম, প্রণম্য বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুকে ছাত্রাবস্থায়ই দীনু ক্রেস্কোগ্রাফ আর সিগ্মোগ্রাফ যন্ত্র আবিষ্কারে সাহায্য করেছিল। দারুন প্রতিভাবান তরুনটি অদূর ভবিষ্যতে খ্যাতনামা বিজ্ঞানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ
করবেই! ফলে ছেলেটিকে সাহায্য করতে আমি কৃতসংকল্প। কিন্তু কী ভাবে ?
হঠাৎ মাথায় ফন্দি এলো, বাপ–বেটা দুজনকে দূর বিদেশে কোথাও পাঠিয়ে দিই না মনোযানে চড়িয়ে! তার আগে অবশ্য মনোযানের কাজকর্ম খুলে বলতে হলো। প্রস্তাবটা শুনে হরদয়ালেরা যেন হাতে চাঁদ পেলেন। বললেন, ‘‘পাঠাতে চাইছেন তো সরাসরি ইংল্যান্ডের সারেতেই পাঠিয়ে দিন। ওখানে আমার এক বোনের বিয়ে হয়েছে। ভগ্নীপতি সেখানে ব্যাবসাবানিজ্য করে। ওখানে গেলে আমরা নিরাপদ। এখানের কারোবার ভাই সামলে নেবে। নাম পাল্টে দীনু অক্সফোর্ড বা কেম্ব্রিজে ভর্তি হবে।’’
ঘণ্টাখানেকের ভেতর বাপ–বেটা তৈরি হয়ে এলেন। মনোযানে চড়িয়ে ল্যাটিচুড আর লঙ্গিচুড মেপে সাতদিন আগের সময়ে
ওঁদের সারেতে পৌঁছে দিলাম। মনোযানের ক্যামেরায় দেখলাম, নিরাপদেই দুজনের অবতরণ ঘটেছে। আর ব্রিটিশ পুলিশের সাধ্য নেই ওদের খুঁজে বের করতে পারে।
২৩ এপ্রিল: যা ভেবেছিলাম, তা হলো না। পুলিশ ঠিক
দীনবন্ধুর গন্ধ শুঁকে শুঁকে হাজির হলো আমার কাছে। সম্ভবত, হরদয়ালের ভাই ব্রিজদয়াল পুলিশের অত্যাচার সইতে না পেরে
ওঁদের যাত্রার কথা, তাতে আমার জড়িত থাকা— সবই বলে দিয়েছিলেন। তাই এক
সকালে বাড়িতে এসে সদলে হাজির
চার্লস!
সব খোঁজ নিয়েই এসেছিল চার্লস। তবু যথাসম্ভব বিনয়ের সঙ্গে বললো, ‘‘স্যার। খবরটা পাকা। দীনবন্ধু আর তার বাবার নিখোঁজ হবার পিছনে আপনার
হাত আছে। অপরাধ কবুল করুন। আর ওদের লুকিয়ে থাকার জায়গার কথা বলে দিন। অন্যথায়... আপনার মত খ্যাতনামা বিজ্ঞানীকে কোমরে দড়ি বেঁধে থানায় নিয়ে যেতে হবে। এক রাজকর্মচারীর খুনিকে সাহায্য করা মানে সরাসরি ইংল্যান্ডেশ্বরীর বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ! এই অপরাধের সাজা খুবই কঠোর।’’
বুঝলাম, অস্বীকার করে লাভ নেই। চার্লস জেনে–বুঝেই আমার মুখোমুখি হয়েছে। তবে বাপ–বেটা কোথায় গিয়েছে , সে এখনো জানে না।
ঠিক করলাম, একটু অভিনয় করবো। ভয় পাওয়া কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম, ‘‘এই ঘটনার বিন্দুবিসর্গ জানতাম না। বাড়ির বাইরে বের হই না
তো। ওরা মিথ্যা কথা বলেছিল, বেশ বুঝতে পারছি। বলেছিল, রাশিয়ায় থাকা এক আত্মীয়ের খুব বিপদ। তাই ওদের রাতারাতি সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছোতে হবে। আমার একটা দারুন গতিতে চলা প্লেন আছে।
তাতে করেই ওদের ওখানে পাঠিয়ে দিয়েছি। কাজটা অন্যায় হয়েছে, বুঝতে পারিনি অফিসার। আপনার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে
প্রস্তুত। শুধু দেখবেন, আমাকে জেলখানায় চালান দেবেন না।
তাহলে সমাজে মুখ দেখাতে পারবো না।’’
চার্লস শুনেই লাফিয়ে উঠলো। বললো, ‘‘আপনার শব্দের গতিতে চলা প্লেনটা আমরাও কাজে লাগাবো। আপনি এখুনি আমাকে ওই সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে দিন। যত তাড়াতাড়ি
পারি ডিনবন্ধুকে ধরে আনতে হবে। ইতিমধ্যে অনেক দেরি হয়েছে। ব্রিজদয়াল গা—ঢাকা দিয়েছিল। এতদিনে ওর সন্ধান পেয়েছি। খুনিকে
ধরতে পারলে আমার একটা বড় প্রমোশনও হবে।’
বুদ্ধি করে বললাম, ‘‘একা যাবেন অমন একটা অপরাধীকে ধরতে? কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গেলে হতো না? মনোযানে একসঙ্গে চারজন বসতে পারে।’’
চার্লস বললো, ‘‘না, না। একা যাবার প্রশ্নই ওঠে না। ডিনু বিপজ্জনক। আমার দুই সহকারি হলফোর্ড আর ও’হারাকে সঙ্গে নেব। ফেরবার সময় ডিনবন্ধুও
থাকছে। আপনি যে বললেন, চারজনে যাওয়া যায়। আপনি কোথায় বসে যান চালাবেন?’’
বললাম, ‘‘তাতে সমস্যা নেই। আমার এই যানটা দূরনিয়ন্ত্রিত। আপনাদের একাএকাই বয়ে নিয়ে গিয়ে আবার ফিরিয়েও আনবে। এখানে
বসে আমি ওটাকে নিয়ন্ত্রণ করবো। শুধু ফিরবার আগে একটা বোতাম টিপে দিতে হবে। তাহলেই আমি ওটাকে ফেরত আনবো।’’
চার্লস দ্বিতীয়বার ভাবেনি। পুলিশের বুদ্ধি সাধারণত মোটাই হয়। সঙ্গে দুই সহকারিকে নিয়ে আমার বাড়িতে ঢুকেছিল। তাদের নিয়েই বাগানে গিয়ে মনোযানে চড়ে বসলো। তার আগে বলল,
‘‘এবার থেকে দরকার হলেই মনোপ্লেনের সাহায্য নেব। আপনার জন্যই যে ডিনুর মত হত্যাকারী ধরা পড়েছে, সরকারকে সে কথাও জানাবো। বড়লাট আপনাকেও পুরস্কৃত করবেন।’’
৩০
নভেম্বর: এই বুঝি আমার কীর্তি জানাজানি হয়ে যাবে, ভয় পেয়ে মনোযান নিয়েই সরাসরি গা–ঢাকা দিয়েছিলাম প্যারিসবাসী বন্ধু ডমিনিকের বাড়িতে। তাই ডায়েরি লেখাও হয়নি। ফিরে আসতে
হরিপদ জানালো আমার খোঁজে কেউ–ই এতদিন আসেনি। ধাতস্থ হয়ে ডায়েরিতে লিখছি আসল ঘটনা। আমি ল্যাটিচ্যুড লঙ্গিচ্যুড ঠিক করে তিনজনকে রাশিয়া পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। ওরা
মনোযান থেকে নামা মাত্রই যন্ত্রের কারসাজিতে সেটা সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এলো দেওঘরের বাগানে। বলাই বাহুল্য, তিন পুলিশ অফিসার আর ফিরতে পারেনি। ফিরে এসে শুনেছিলাম, রহস্যজনকভাবে একসঙ্গে তিনজনই নিখোঁজ! এই রহস্যের পুলিশ এখনও কোনো সূত্রই পায়নি।
হবে নাই বা কেন! মনোযানে ওদের পিটার্সবাগে পাঠিয়েছিলাম ঠিকই। তবে সেটা ১৯৪২ সালের এপ্রিলের পিটার্সবার্গ নয়। ১৯১৭ সালের মার্চের শেষদিকের পিটার্সবার্গ। তখন সবে জার দ্বিতীয় নিকোলাস ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। গোটা রাশিয়া জুড়ে গৃহযুদ্ধের আবহাওয়া। ধরেই নিয়েছিলাম, অন্যদেশের পুলিশের উর্দিতে ঘুরতে থাকা
তিনজনকে দেখে সহজে রাশিয়ানরাও ছাড়বে না।
গুপ্তচর সন্দেহে ওদের হয়তো এতদিনে সাইবেরিয়ায় নির্বাসনই দেওয়া হয়েছে।
বিবেক দংশন? না,
একটুও হয়নি। উল্টে দীনুর মত ভবিষ্যতের এক প্রতিভাধর বিজ্ঞানীকে সাজার হাত থেকে বাঁচাতে পেরে মনটা
বরং খুশিতেই ভরে উঠেছিল।