মঙ্গলের মাটিতে
রহস্যময় পাথর
পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ
| | মঙ্গল গ্রহের মাটিতে নতুন এক ধরনের রহস্যময় পাথরের খোঁজ পেয়েছে নাসা।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি জানিয়েছে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে মঙ্গলের মাটিতে থাকা
পারসিভারেন্স রোভারের ক্যামেরায় সম্প্রতি ধরা পড়েছে এমন এক
পাথরের ছবি, যে পাথর মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে একেবারেই
মিলছে না। অজানা আকার ও আকৃতির এই পাথরকে ঘিরে কৌতূহল দানা বেঁধেছে বিজ্ঞানীমহলে। নাসার বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, লোহা এবং নিকেল
সমৃদ্ধ এই পাথর কোনো এক সময়ে মঙ্গল পৃষ্ঠে এসে পৌঁছেছিল মহাকাশের অন্য কোনো স্থান
থেকে।
পারসিভারেন্স রোভার
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মঙ্গলের মাটিতে প্রথম পা
রেখেছিল নাসার স্বয়ংক্রিয় রোবট যান পারসিভারেন্স রোভার। সেই থেকে মঙ্গল গ্রহের পথে, প্রান্তরে, পাথুরে ভূমি, প্রাচীন হ্রদের উপত্যকায় নানা রহস্য খুঁজে বেড়াচ্ছে পারসিভারেন্স
রোভার। এত বছর পরেও রোভারটি প্রমাণ করে চলেছে, লাল গ্রহের অজানা বিভিন্ন
রহস্য জানার শেষ নেই। নতুন ভাবে স্মার্ট আপগ্রেডের পরে পারসিভারেন্স এখন একসঙ্গে একাধিক কাজ করে চলেছে।
পারসিভারেন্স রোভারের অত্যাধুনিক কেমক্যাম যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে
আগে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা করেছেন
বিজ্ঞানীরা। এ জন্য কেমক্যাম যন্ত্রের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের পাথরের মৌলিক গঠনের
পরিমাণ নির্ণয় করে চলেছেন তারা। কিছুদিন আগেই মঙ্গল গ্রহের
গ্যালে ক্রেটার বা খাদের শিলা বিশ্লেষণ করে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে
ম্যাঙ্গানিজের খোঁজ মিলেছে বলেছে বলে জানিয়েছিলেন তারা। এই শিলাগুলো পলিসমৃদ্ধ
নদীতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ প্ল্যানেটস নামের
একটি জার্নালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। রোভার পারসিভের্যান্সে রয়েছে 'rock-zapping laser'। এর সাহায্যে
মঙ্গল গ্রহের ভূপ্রকৃতি সম্পর্কিত নমুনা এবং তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। এই লেসারের
সাহায্যেই নতুন পাথরেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
মঙ্গল গ্রহে কোনো সময়ে প্রাণের
অস্তিত্ব ছিল কি না কিংবা ভবিষ্যতে সেখানে প্রাণীর বসবাস সম্ভব কি না, এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল বহু দিনের। পারসিভারেন্স রোভার
গত চার বছর ধরে মঙ্গলের মাটিতে থাকা বিভিন্ন পাথরের উপর গবেষণা করে
বিজ্ঞানীদের সহযোগিতা করে চলেছে। পারসিভারেন্স রোভারের ক্যামেরাতেই সম্প্রতি ধরা পড়েছে নতুন ধরনের প্রায় ৩১ ইঞ্চি চওড়া
রহস্যময় পাথরটির ছবি। পাথরটি পাওয়া গিয়েছে মঙ্গলগ্রহের জেজ়িরো ক্রেটারের ভারনোডেন এলাকায়। এই পাথরটির ধরন পরীক্ষা করতে পারসিভারেন্স রোভার সুপারক্যাম ইনস্ট্রুমেন্টের লেজ়ার এবং স্পেক্ট্রোমিটার ব্যবহার করেছে।এর থেকেই জানা গিয়েছে পাথরের মধ্যেকার রাসায়নিক, লোহা এবং নিকেলের পরিমাণ। বিজ্ঞানীরা পাথরটির নাম দিয়েছেন 'ফিপসাকস্লা'।
অনেকেই বলছেন, ফিপসাকস্লা আসলে একটি উল্কাপিণ্ড, যা অতীতে কোনও এক সময়ে মঙ্গলের মাটিতে আছড়ে পড়েছিল। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ, সাধারণ গ্রহাণুর মধ্যে যে
লোহা ও নিকেল দেখা যায়, এটাও সেরকমই। অর্থাৎ সৌরজগতের অন্যত্রই এর জন্ম এবং সম্ভবত
কোনো গ্রহাণুর অংশ এটি। যদিও এখনও তেমন কিছু প্রমাণিত
হয়নি, তবে আপাতত কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে
দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা।
...............................
আ র ও প ড়ু ন -
+ প্রকৃতি নয়, গ্রহাণুর কাছেই হেরে গিয়েছিল ডাইনোসরেরা
+ কপি পেস্টের জনক ল্যারি টেসলার
+ ডাইনোসরের বিরল জীবাশ্মের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা। |