বিজ্ঞান বিচিত্রা । অগ্রহায়ণ ১৪৩২



প্রকৃতি নয়, গ্রহাণুর কাছেই হেরে গিয়েছিল ডাইনোসরেরা  












পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী

মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ



 

প্রকৃতির কাছে  নয়, খাদ্যের অভাবেও নয়, প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসরেরা হেরে গিয়েছিল গ্রহাণুর কাছেই। আজ থেকে সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে ডাইনোসরেরা  সংখ্যায়  ছিলো অনেক।  বিশাল গ্রহাণু এসে পৃথিবীকে ধাক্কা না দিলে  এত দ্রুত তাদের বিলুপ্তি সম্ভব ছিল না। বিজ্ঞানীদের দেওয়া এই তথ্য বদলে দিতে পারে ডায়নোসরদের বিলুপ্তির ইতিহাস।

নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ফ্লিনের নেতৃত্বে এক দল বিজ্ঞানী প্রাচীন শিলা নিয়ে গবেষণা করছিলেনসেই গবেষণাপত্রে  ডাইনোসরদের বিলুপ্তির কারন সম্পর্কে  চমকপ্রদ সব তথ্য হাজির করেছেন তারা। তারা দাবি করেছেন, ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষ পর্যায়ে  ডাইনোসরদের অবলুপ্তি  আদৌ অনিবার্য কোনো ঘটনা ছিল না। গ্রহাণু বিপর্যয়েই ডাইনোসরেরা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।  খাদ্যের কোনো অভাব ছিল না, প্রকৃতিও সঙ্গে ছিল তাদের। শ্রেণী সংগ্রাম থাকলেও বহিরাগত কোনো আক্রমণের শিকার হতে হয়নি। প্রকাণ্ড এক গ্রহাণুর আকস্মিক  ধাক্কাই লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল  পৃথিবীকে। সেই ধাক্কাতেই পৃথিবীর তিন-চতুর্থাংশ উদ্ভিদ এবং প্রাণী নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সেই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে  গিয়েছিল  অতিকায়  ডাইনোসরেরাও। বেঁচে গিয়েছিল  কিছু পাখি। সেই সব পাখিদের অনেকেই এখনও সেই প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসরের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে

অনেকেই মনে করতেন, ডাইনোসরেরা তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই ক্রমশ বিলুপ্তির দিকে এগোচ্ছিল। পারিপার্শ্বিক প্রকৃতির  সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিল না তারা। অতিরিক্ত হিংস্র স্বভাবও তাদের কাল হয়েছিল। নিজেদের মধ্যে মারামারিতেও জড়িয়ে পড়েছিল, যেগুলো তাদের দ্রুত অবলুপ্তির দিকে নিয়ে গিয়েছিলগ্রহাণু বিপর্যয় সেই বিলুপ্তি নিশ্চিত করেছিল মাত্র। 

কিন্তু, ডাইনোসর সংক্রান্ত এত দিনের প্রচলিত সেই ধারণায় এ বার ধাক্কা লাগতে চলেছে। অধ্যাপক ফ্লিনের কথায়, আমাদের গবেষণা প্রমাণ করছে, অন্তত উত্তর আমেরিকায় ডাইনোসরেরা বিলুপ্তির পথে যাচ্ছিল না। তারা সেখানে ভালোই ছিল এবং সংখ্যায় বেড়েও উঠছিল। 

অধ্যাপক ফ্লিন ও তার সহযোগী গবেষকেরা নিউ মেক্সিকোর একটি বিশেষ ধরনের শিলার উৎপত্তির নির্দিষ্ট সময়কাল খোঁজার কাজ করছিলেন। দু’টি পদ্ধতিতে ওই শিলার উৎপত্তিকাল খোঁজার কাজ  হয়েছিল। এক, শিলার মধ্যে পাওয়া স্ফটিকের দু’টি আর্গন আইসোটোপের অনুপাত বিশ্লেষণের  মাধ্যমে শিলার সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারিত করা। দুই, শিলা গঠনের উপাদানের মধ্যেকার চৌম্বকীয় কণার সারিবদ্ধতা বিশ্লেষণ করে সেই সময়ে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের দিক নির্ধারণ করে। এই দুই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন ডাইনোসরদের গণবিলুপ্তির সাড়ে তিন লক্ষ বছর আগেই ওই শিলার উৎপত্তি  হয়েছিল। এই শিলাগুলি ছিল  নাশোইবিটো শিলা। এটি একটি বিশেষ ধরণের পাললিক শিলা, যা ডাইনোসর বিলুপ্তির সময়ের কাছাকাছি তৈরি হয়েছিল। ডাইনোসরের সবচেয়ে কমবয়সি জীবাশ্মটি  নিউ মেক্সিকোর ওই শিলাতেই পাওয়া গিয়েছিল। তাদের এই গবেষণা  ডাইনোসরদের সম্পর্কে এতদিনের  প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেঅধ্যাপক ফ্লিন বলেছেন, সেই সময়ে উত্তর আমেরিকার দক্ষিণাংশের ডাইনোসরেরা যথেষ্ট বৈচিত্র্যময় ছিল। উত্তর আমেরিকায় এমন কোনও ডাইনোসর ছিল না, যারা বিলুপ্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভ ব্রুসেট জানিয়েছেন, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার ডাইনোসরদের মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে তফাৎ রয়েছে। কিন্তু গ্রহাণু বিপর্যয়ের আগে পর্যন্ত এই ডাইনোসরেরা নির্দিষ্ট কোনও সঙ্কটে ছিল না। বিলুপ্তির একমাত্র সম্ভাব্য কারণ হতে পারে এই গ্রহাণু বিপর্যয়। 

নতুন এই গবেষণা বিজ্ঞানী মহলে ডাইনোসরের অবলুপ্তি নিয়ে নতুন আগ্রহের সঞ্চার করেছে। সাড়ে তিন লক্ষ বছর আগেও যে পৃথিবীর বুকে ডাইনোসরের দল ঘুরে বেড়াত, নিউ মেক্সিকো থেকে পাওয়া এই শিলাই তার প্রমাণ। তবেএই বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা

 


.......................................................................................

আ  র  ও   প  ড়ু  ন   -

+  ফুরিয়ে আসছে পৃথিবীর অক্সিজেন 

+  কপি পেস্টের জনক ল্যারি টেসলার

+  ডাইনোসরের বিরল জীবাশ্মের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা।