সংস্থাটির উদ্যোক্তারা সেই সময়ে সংখ্যায় ছিলেন মোট ১১ জন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন গ্রেগ ব্রকম্যান যিনি বর্তমানে সংস্থার প্রেসিডেন্ট, ছিলেন স্যাম অল্টম্যান যিনি এখন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, আর ছিলেন ইলন মাস্ক। ইলন মাস্ক পরে এই সংস্থা
থেকে সরে যান।
২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর এই প্রতিষ্ঠানটির হাত ধরে
তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল 'চ্যাটজিপিটি'। এরপর দ্রুতই সব কিছু বদলে
যেতে থাকে। মাত্র দু মাসের মধ্যে ১০ কোটি
মানুষের কাছে পৌঁছে যায় চ্যাটজিপিটি। তিন বছরের মধ্যে ৮০ কোটির বেশি সক্রিয়
সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর মাইলফলক অর্জন করেছে চ্যাটজিপিটি। ওপেনএআইয়ের তৈরি এই চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর
থেকেই প্রযুক্তি, সমাজ ও অর্থনীতিতে এক
অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসে। এটি আজ কেবল একটি চ্যাটবটের
মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এখন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে এনে দেওয়া এক যুগান্তকারী আবিষ্কার
হয়ে উঠেছে।
স্মার্টফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে সোশ্যাল
মিডিয়ার নিউজফিড, চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগ
নির্ণয় থেকে শুরু করে স্ব-চালিত গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ প্রযুক্তির প্রতিটি স্তরে বিরাজমান। চ্যাটজিপিটি ও
অন্যান্য জেনারেটিভ মডেলগুলো মানুষের মতোই লেখা
তৈরি, ভিডিও তৈরি, ছবি আঁকা বা কোড লেখার
ক্ষমতা দেখিয়ে প্রযুক্তি জগতে এক নতুন উন্মাদনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৪ সালের
‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এখন কৃত্রিম মেধাজাত কবিতার থেকে মানুষ-কবির অন্তর থেকে
নিঃসরিত কবিতার পার্থক্য নিরূপন করা ক্রমেই দুরূহতর হয়ে উঠছে। কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা এখন অপারেটিং সিস্টেম
চালানো থেকে শুরু করে ইমেইল পাঠানো বা ফোন করার মতো কাজগুলো একজন দক্ষ প্রজেক্ট
ম্যানেজার বা এইচআর কর্মকর্তার মতোই নিখুঁতভাবে করতে পারছে।
কিন্তু, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কাজ বা সীমিত কিছু ক্ষেত্রেই পারদর্শী। এরা প্রত্যেকেই
নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য, কিন্তু এদের কেউই নিজেদের
গণ্ডির বাইরে চিন্তা করতে পারে না। আগামীদিনে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও
উন্নত করে তুলতে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই নিয়ে আসতে চলেছেন।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, নতুন এই কৃত্রিম সাধারণ
বুদ্ধিমত্তা কেবল কোনো নির্দিষ্ট কাজে
পারদর্শী হবে না, বরং মানুষের মতোই যেকোনো
বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ বোঝার, শেখার, যুক্তি প্রয়োগ করার এবং সৃজনশীলভাবে সম্পাদন করার ক্ষমতা
রাখবে অর্থাৎ এটি হবে মানব স্তরের বুদ্ধিমত্তা।
কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা সত্যিকারের সৃজনশীলতার অধিকারী হয়ে উঠবে। এটি যেমন নতুন
বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আবিষ্কার করতে পারবে, তেমনি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের শিল্প বা সংগীতও তৈরি করতে সক্ষম হবে, এমনকি নতুন দার্শনিক ধারণারও জন্ম দিতে পারবে। এটি কেবল
প্যাটার্ন চিনবে না, প্যাটার্ন তৈরিও করবে। কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা হবে এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা মানুষের মতো যেকোনো
বৌদ্ধিক কাজ করতে পারবে সেটা ভাষা বোঝা হোক কিংবা ছবি চিনতে পারা, সৃজনশীল লেখা, সমস্যার সমাধান করা, এমনকি নিজে থেকে শিখতে ও পারবে। এটি হবে বর্তমান কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার থেকে একটি অনেক বড় মৌলিক অগ্রগতি এবং এটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে যুগান্তকারী একটি অধ্যায় সৃষ্টি করতে চলেছে। নতুন কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা হবে বহুমুখী, স্বয়ংক্রিয় এবং নিজে থেকে
নতুন জিনিস শেখার ক্ষমতা সম্পন্ন। বিজ্ঞানীরা বলেছেন এখনও আমরা ন্যারো এ আই- এর
যুগে আছি। প্রচলিত মডেলগুলো, যেমন, জিপিটি-4 ( GPT-4), ডিপসিক আর1 ( DeepSeek R1) এখন প্রচুর
তথ্য থেকে শিখছে, কিন্তু সত্যিকারের সাধারণীকরণ বা স্ব-অভিযোজন করতে পারছে না। গবেষকেরা
নিউরোসিম্বলিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেলফ-লার্নিং আর্কিটেকচার, এবং রিনফোরস্মেন্ট
লার্নিংএর মাধ্যমে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তার দিকে এগোচ্ছেন। স্যাম
অল্টম্যান বলেছেন ২০২৮ সালের মধ্যেই এই
কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা এসে যেতে পারে।
অনেকেই বলছেন, ফিপসাকস্লা আসলে একটি উল্কাপিণ্ড, যা অতীতে কোনও এক সময়ে মঙ্গলের মাটিতে আছড়ে পড়েছিল। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ, সাধারণ গ্রহাণুর
মধ্যে যে লোহা ও নিকেল দেখা যায়, এটাও
সেরকমই। অর্থাৎ সৌরজগতের অন্যত্রই এর জন্ম এবং সম্ভবত কোনো গ্রহাণুর অংশ এটি। যদিও
এখনও তেমন কিছু প্রমাণিত হয়নি, তবে আপাতত কোনও
সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা।