আমেরিকার হোয়াইট মাউন্টেন ন্যাশনাল ফরেস্ট মিউজিয়ামে মুজের ছবি। সঙ্গের ভদ্রলোক আমেরিকার বিজ্ঞানি
দীর্ঘকাল গবেষণা করেছেন বাইসন নিয়ে। মুজ,
দশাসই এক অদ্ভুত প্রাণী
ড. সৌমিত্র চৌধুরী কলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ
| | বিশাল আকারের এক জন্তু। নাম শুনিনি আগে। দেখিওনি। দেখলাম হোয়াইট মাউন্টেন ন্যাশনাল ফরেস্টে (White Mountain National Forest (WMNF)। প্রাণীটির নাম মুজ (Moose )।
ভিন্ন দেশের অদ্ভুত দর্শন, দশাসই এক
প্রাণী। আমেরিকার অরণ্য ঘেরা পাহাড়ে দেখতে পেলাম। আমাদের দেশ ভারত প্রাণী বৈচিত্রে সমৃদ্ধ। কিন্তু ভারতের কোথাও মুজ নামের
প্রাণীর সন্ধান মেলে না আমেরিকার নিউ হ্যামশায়ার (New
Hampshire) রাজ্যে বেড়াতে গিয়ে চতুস্পদ বিশাল আকারের প্রাণীটি দেখলাম। নিউ হ্যামশায়ার রাজ্যের
বিশাল অরণ্য, হোয়াইট মাউন্টেন ন্যাশনাল ফরেস্ট। মাউন্টেন যে খুব উঁচু তা
নয়, সর্বোচ্চ শৃঙ্গ চার হাজার ফুট। পাহার গুলোরও অনেক নাম।
ক্যানন মাউন্টেন (Cannon
Mountain), কিন্সম্যান মাউন্টেন (Kinsman Mountain), মাউন্টেন মুসিলক (Mount
Moosilauke)। পাহাড় অনুচ্চ হলেও ফরেস্ট কিন্তু আয়তনে খুব বড়, বারশো বর্গ মাইলেরও বেশী। হোয়াইট মাউন্টেন অরণ্যের কিছু অংশ
অবশ্য ‘মেইন’ নামের অন্য আরেকটি রাজ্যের
অন্তর্গত। হোয়াইট মাউন্টেন পাহাড়ের অবস্থান আমেরিকার উত্তর পূর্ব
দিকে। পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে গাড়ি চলবার ঢেউ খেলানো মসৃণ পথ। দুপাশে ঘন অরণ্য।
অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে যায় শরৎকাল, ওদের ভাষায় ‘ফল (Fall)’। গাছের পাতা ঝরার মরসুম। ম্যাপেল গাছে রঙ লাগে। সবুজ থেকে
হলুদ তারপর লাল পাতা। শীত ঋতুর আগে অনবদ্য লাল রঙে সেজে থাকে পাহাড়, অরণ্য। তখন চলার পথের দুই ধারে শুধুই লাল রঙ। শুধু মাত্র ‘ফল কালার’ দেখতেও প্রচুর ভ্রমণকারী
আসেন এখানে।
পাহাড় জঙ্গলে গাড়ি চলবার রাস্তা যেমন আছে, তেমনই আছে হেঁটে বেড়াবার পথ (hiking trail)। আছে জঙ্গলের
ভিতর ক্যাম্প করে থাকবার ব্যবস্থা। পাহাড় জুড়ে আছে বহু প্রাণী। ভাল্লুক, র্যাকুন, হরিণ, মুজ। মুজ নামের প্রাণীটি বেশ অদ্ভুত রকম। দেখতে বাইসনের মত।
শরীরের গঠন দেখে তেমনই মনে হয়। বাইসনের মতই বলিষ্ঠ। পায়ে সাদা লোম, মনে হয় যেন সাদা মোজা। কিন্তু মাথার দিকটা অন্য রকম। মাথার
উপর শিং তাও আবার গাছের ডালের মত (twig-like) । আমাদের দেশে অনেক ধরনের হরিণের মাথায় দেখা যায় গাছের ডালের
মত শিং (antlers)। চিতল, বারশিঙ্গা, সম্বর এই ধরণের হরিণ। মুজ নামের প্রাণীটির মাথায়ও বারশিঙ্গা হরিণের মত বড় শিং।
তাহলে কোন ধরণের প্রাণী এই মুজ? হরিণ না বাইসন! দুই জন্তুর মিশ্রন, এমন প্রাণী অনেক দেখেছি।
ভুটান পাহাড়ের টাকিন নামের প্রাণীটি যেমন। ভেড়া আর পাহাড়ি গরুর সংমিশ্রণ। মিথুন
নামের এক চারপেয়ে প্রাণী দেখেছি অরুণাচল প্রদেশে। স্থানীয় ভাষায় নাম গয়াল (Gayal)। প্রাণীটি পোষ
মানে, সেটি গরু কিন্তু দেখতে বাইসনের মত। আর আমেরিকায় দেখা মুজ
নামের প্রাণীটি? মাথার দিকে তাকালে মনে হয় সম্বর হরিণ। কিন্তু শরীরটা তো
বাইসনের মত। প্রাণীটি যেন হরিণ আর বাইসনের সংমিশ্রণ। একে বাইসন বলবো না হরিণ? ভাবনা চিন্তা গবেষণা হয়েছে বিস্তর। বিজ্ঞানের বিচারে সনাক্ত
হয়েছে মুজ নামের প্রাণীটি হরিণ পরিবারের। চার থেকে সাত ফুট উঁচু। ছোট্ট লেজ (6 cm to 8 )আছে। ওজনে ছয়-সাতশো কেজি। স্ত্রী ও পুরুষ ভেদে ওজন উচ্চতার
পার্থক্য আছে। আর দেশ ভেদে প্রাণীটি ভিন্ন আকারের। আলাস্কার মুজ আকারে সব চাইতে
বড়। দল বেঁধে নয়, একা থাকা পছন্দ করে প্রাণীটি। গাছের ডাল পাতা খেয়ে বেঁচে
থাকে। এমনিতে শান্ত তবে প্রয়োজনে ভীষণ আক্রমণাত্মক। উপজাতীয় মানুষ প্রাণীটি শিকার করতো। সে অনেক দিন আগের কথা।
এখন প্রায় সব দেশেই আইন করে শিকার বন্ধ করে দেওয়া
হয়েছে। শিকার নিষিদ্ধ তাই কমে যাওয়া প্রাণীটির সংখ্যায় বাড়ছে। অনেক দেশে লোকালয়েও
চলে আসে ইদানিং। অদ্ভুত দর্শন প্রাণীটি দেখে অবাক হয়েছি বিস্তর। ইচ্ছে হল
বন্ধু সহকর্মীদের জানাই। তাই এই লেখা। আমেরিকার হোয়াইট মাউন্টেন ন্যাশনাল ফরেস্টের মিউজিয়ামে রাখা প্রাণীটির ছবি দিলাম।
<< হোম পেইজ
আরও পড়ুন -
+ পোকামাকড়ের অ্যান্টেনা
+ গাছের ভাষা
+ জোনাকি জ্বলে মিটিমিটি
+ খুব ছোট ক্ষমতায় সূর্যেরও বেশী
+ গলগি
+ বোতল ব্রাশ
+ ফুলের কেন এত রঙ
+ ডাকটিকিটে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ...
+ প্রকৃতির ফাঁদ
+ বিজ্ঞান দিবস ও ভারতের নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী
+ হাড়গিলা কি বিলুপ্ত পাখি
+ মাইক্রোবায়োলজি আর মাইক্রোস্কোপ
+ রহস্যে মোরা গিরগিটি
+ হাঁস নিয়ে অন্য কথা
<< হোম পেইজ
|