সুনিতা উইলিয়ামস —
আকাশে ডানা মেলা এক নারী
ড. সৌমিত্র চৌধুরী কলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ
| | ছোটবেলা থেকেই আকাশে উড়বার স্বপ্ন দেখতো মেয়েটি। আমেরিকার ওহাইও শহরে জন্ম (১৯শে সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫)। স্বপ্ন সফল করতে তার প্রথম পদক্ষেপ, মার্কিন বিমান বাহিনীতে যোগদান।
সেখানে নিচু পদের অফিসার (Ensign) হলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে (১৯৮৯) আরেকটু উঁচু পদ পেলেন (Naval Aviator)। বাহিনীতে
হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে প্রমাণ করলেন নিজের দক্ষতা। তারপর পৌঁছে গেলেন আরও
উচ্চতায়। নাসা (National Aeronautics and Space
Administration)-এর মহাকাশচারী হিসেবে
নির্বাচিত হলেন। অত্যন্ত কঠিন আর দীর্ঘ সংগ্রাম। প্রচণ্ড পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পাড়ি দেবার সুযোগ পেলেন।
এরপর দীর্ঘ সময় কাটালেন মহাকাশ স্টেশনে। মহাকাশে হাঁটার রেকর্ডও গড়লেন। তাঁর
সাহস, দৃঢ়তা, পরিশ্রম, অক্লান্ত গবেষণা মহাকাশ চর্চার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। তিনি সুনিতা উইলিয়ামস।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান মহাকাশচারী। সুনিতা এবং আরও এক মহাকাশচারী (বুচ
উইলমোর) বোয়িং স্টারলাইনার নামের গগনযানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের
উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন (২০২৪ সালের ৫ই জুন)। পরিকল্পনাটি ছিল আট দিনের। কিন্তু
ফিরতে পারলেন না তাঁরা। আটকে গেলেন মহাকাশে। কারণ স্টারলাইনারের যান্ত্রিক ত্রুটি
(হিলিয়াম লিক এবং থ্রাস্টার সমস্যা)। কঠিন সমস্যায় পড়লেন সুনিতা আর বুচ। বাড়ির
লিফটে আটকে পড়লেই অনেকের হার্ট বিট বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু মহাকাশচারীরা অন্য রকম।
হাজার বিপদের মোকাবিলা করতে তৈরি তাদের শরীর, মন। প্রায় ৯ মাস মহাকাশে আটকে
থাকবার পর অন্য আকাশযানে (স্পেসএক্স-এর ক্রু ড্রাগন) তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা
সম্ভব হল (১৯ মার্চ ২০২৫)। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সময় কাটানো কোনও সহজ কাজ
নয়। মাইক্রো গ্রাভিটি সেখানে। সব কিছু ভাসমান। তার মধ্যেও বেঁচে থাকার প্রাত্যহিক
কর্ম, গবেষণার কঠিন এক্সপেরিমেন্ট চালিয়া নিয়ে যাওয়া। পৃথিবীর
মাটিতে দাঁড়িয়ে সেই অবস্থা আমাদের অনুমানেরও অতীত। সেখানে পেশী শক্তি কমে যায়। হাড়
ভেঙে যায়। রক্তচাপ পরিবর্তিত হয়ে হার্টের
সমস্যা তৈরি করে। হাজার বিপদেও লক্ষে অবিচল
ছিলেন সুনিতারা। বিজ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে শূন্যে ঝুলে থাকা নয়টি মাস। কত যন্ত্রণা সহ্য করে ছোট্ট একটি গোল
বৃত্তে দিনের পর দিন গবেষণা করে গেছেন। গবেষণা পৃথিবীর মানুষের জন্য। মহাকাশ
গবেষণার সুফল প্রতি মুহূর্তে পাচ্ছি আমরা। পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের সঙ্গে
যোগাযোগ এবং তথ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। সুনিতাদের গবেষণায় উঠে আসা তথ্য প্রকাশ হবে
আরও কিছু সময় পরে। আপাতত সুনিতার কয়েকটি কৃতিত্ব উল্লেখ করি। মহাকাশে ৩২২ দিনের
বেশি সময় কাটিয়েছেন। সাতটি স্পেসওয়াক করেছেন সুনিতা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের
(ISS) কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সুনিতা উইলিয়ামস শুধু একজন
সফল মহাকাশচারী নন; সংকল্পে অবিচল এক আদর্শ বিজ্ঞানী। তিনি প্রমাণ করেছেন, নারীরাও মহাকাশ চর্চার মতো কঠিন বিষয়ে সফল হতে পারে।
সুনিতা উইলিয়ামসের কিশোর
জীবন
- জন্ম: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫, ইউক্লিড, ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্রে।
- বাবা: ড. দীপক পান্ড্যা, গুজরাটের ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিউরোঅ্যানাটমিস্ট।
- মা: বনি পান্ড্যা (উরসুলিন বনি জালোকার), স্লোভেনীয় বংশোদ্ভূত।
- সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় পরিবারে বড় হয়েছেন, যা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌতূহলকে সমৃদ্ধ করেছে।
শৈশব ও কৈশোর -
- শৈশব কাটিয়েছেন নিডহ্যাম, ম্যাসাচুসেটস-এ।
- ছোটবেলা থেকেই আকাশের দিকে তাকিয়ে তারার মাঝে ভেসে
বেড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন।
- ছিলেন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ও সক্রিয়—শুধু পড়াশোনায় নয়, খেলাধুলা ও নানা চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে ভালোবাসতেন।
- স্কুল: নিডহ্যাম হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করেন।
- কিশোর বয়সেই বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও অভিযানের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়।
- খেলাধুলা ও শারীরিক চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী
হয়ে ওঠেন।
- পরিবার তাঁকে শিখিয়েছে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও কৌতূহল—যা পরবর্তীতে তাঁর মহাকাশ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে।
- কৈশোরের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র নেভাল একাডেমিতে ভর্তি
হয়ে ফিজিক্যাল সায়েন্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন (১৯৮৭)।
- পরে ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেন (১৯৯৫)।
<< সূ চি প ত্র
আরও পড়ুন -
+ বিষাক্ত ব্যাং আর ভয়ঙ্কর টক্সিন + গাছের ভাষা
+ জোনাকি জ্বলে মিটিমিটি
+ খুব ছোট ক্ষমতায় সূর্যেরও বেশী
+ গলগি
+ বোতল ব্রাশ
+ ফুলের কেন এত রঙ
+ ডাকটিকিটে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ...
+ প্রকৃতির ফাঁদ
+ বিজ্ঞান দিবস ও ভারতের নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী
+ হাড়গিলা কি বিলুপ্ত পাখি
+ মাইক্রোবায়োলজি আর মাইক্রোস্কোপ
+ রহস্যে মোরা গিরগিটি
+ হাঁস নিয়ে অন্য কথা
<< সূ চি প ত্র
|